ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ডা. সাঈদা শওকত জেনির উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফ উদ্দিনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার:
সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালে পরিচয়পত্র চাওয়া নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক, বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং বি-১৭৫৩ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ন-সম্পাদক মানবাধিকার কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন।
এক নিন্দা বার্তায় আশরাফ উদ্দিন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির আচরণ চিকিৎসক সুলভ ছিলো না। একজন শিক্ষিত ও ডাক্তার মানুষের দায়িত্ব অনেক। তাদের দিকে জাতি তাকিয়ে থাকে। তাদের থেকে নতুন প্রজন্ম শিখে। শুধু পরিচয় পত্র দেখাতে বলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে এরূপ অসদাচরণ কোন ভদ্র মহিলা করতে পারে না বলে আমি মনে করিনা। যদি দেশের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষিত মানুষ যদি আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে এ ধরনের আচরন করে তাহলে দেশের অশিক্ষিতরা কেমন আচরন করবে। তিনি বলেছেন, তিনি নাকি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল শওকত আলীর সন্তান। এ ক্ষেতে তাকে আরো দায়িত্বশীল আচারন করা দরকার ছিলো। আমি বলবো সত্যিই যদি তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল শওকত আলীর যোগ্য সন্তান হয়ে থাকেন তাহলে তার এই উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য জাতির কাছে এবং একান্তভাবে ভুক্তভোগী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিকট ক্ষমা চাওয়া বাঞ্ছনীয় বলে আমার মনে হয়। পৃথিবীর সব দেশেই পুলিশের আইনগত অধিকার আছে যে কোন নাগরিকের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার এবং তার পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার। তিনি বীর উত্তমের মেয়ে হোন বা বীর বিক্রমের মেয়ে হোন । একজন সুনাগরিকের দায়িত্ত হচ্ছে চাইবা মাত্র সে পরিচয়পত্র দেখানো। কিন্তু মহিলা সেটি না দেখিয়ে যে অসভ্য আচরন তা নিন্দনীয় ও শান্তি-শৃংখলা ভঙ্গের সামিল। এক সচেতন নাগরিক হিসাবে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি প্রাইভেট কারযোগে এলিফেন্ট রোডের ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের সহযোগিতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার গাড়ি থামিয়ে ডাক্তারের এপ্রোন পরিহিতা জেনির পরিচয়পত্র দেখতে চান। বারবার অনুরোধ করেও তার কাছ পরিচয়পত্র দেখতে পাননি উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা। জেনি জানান, তিনি পরিচয়পত্র বাসায় রেখে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উঠেন ডাক্তার জেনি। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করতে থাকেন। তিনি বলেন, করোনায় জীবন গেছে কয়জন ডাক্তারের, আর আপনারা কতজন মরছেন। আমার কাছে আবার চান মুভমেন্ট পাস। এ সময় নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কাইয়ুম ওই নারীকে বলেন, আপনি আমাদের ধমক দিচ্ছেন কেন? জবাবে ডাক্তার বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মেয়ে। জবাবে ওসি বলেন, আমিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আপনি আমাকে শোনাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার কথা। ডাক্তার তখন নিজের পরিচয় সম্পর্কে বলেন, ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আমাকে আপনারা হয়রানি করতে পারেন না। পরে পুলিশের আরেক সদস্য বলেন, আপা আপনাকে তো হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ডাক্তার জেনি বলেন, তুই মেডিকেলে চান্স পাস নাই, তাই তুই পুলিশ। আমি চান্স পাইছি তাই আমি ডাক্তার। এসময় নিজ গাড়িতে ওঠে যান ওই নারী চিকিৎসক। এসময় পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, আপনি আমাকে তুই তুই করে বলছেন কেন? এক পর্যায়ে পুলিশকে তিনি হয়রানি করলে আন্দোলনের হুমকি দেন। পুলিশ জবাবে বলছে, আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন। গাড়ির গ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে তখন ওই নারী ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ। এ সময় ওই নারী ডাক্তার জেনি তাদের বলেন, আর আমি কে, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা। এই কথা বলে এক উর্ধ্বতন কাউকে কল করছিলেন। ফোনে ওপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে হয়রানি করছে জানিয়ে ফোনটি পুলিশ সদস্যের হাতে তুলে দেন কথা বলার জন্য। এসময় তিনি একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ফোনে কথা বলেন ম্যজিস্ট্রেট। ওই ডাক্তার তখন তার কাছে পুলিশ সদস্যদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। একপর্যায়ে ডাক্তারের অন্য সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে বিষয়টি সমাধান হয়। প্রায় আধা ঘন্টা পরে ডাক্তার জেনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *