নতুন করে আলোচনায় সাবেক এসপি হারুন চারদিকে জয়জয়কার ॥ দেশের পরিস্থিতি এখনো অনেকটা শান্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বিশেষ প্রতিনিধি:
অত্যান্ত দক্ষতা ও সম্মানের সাথে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন না.গঞ্জের বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ। হারুন অর রশিদের বিচক্ষনতার কারনে মামুনুল হককে গ্রেফতারে কোনো বেগ পেতে হতে হয়নি পুলিশ সদস্যদের। স্বাভাবিকভাবেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাকে সম্মানের সাথে পুলিশের গাড়ীতে হেটে হেটে নিয়ে যাওয়া হয়। পড়ানো হয়নি হেনকাপ। হারুন-অর-রশিদের বিচক্ষনতার কারনে গ্রেফতারকৃত মামুনুল হতও সে সময় শান্ত-স্বাভাবিক ছিলেন। এদিকে অত্যান্ত বিচক্ষনতার সাথে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতারের ফলে চারদিকে হারুন-অর-রশিদের বাহ বাহ জয়ধ্বনী বাজছে। তার বিচক্ষনতায় এখনো ঢাকাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
জানা যায়, দীর্ঘ নজরদারি শেষে মামুনুলকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তের পর গতকাল শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাত থেকেই ওই মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অবস্থান নেন। সকালের দিকে মাদ্রাসা এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও। প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মামুনুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মামুনুলকে গ্রফতারে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদসহ কয়েকজন মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মামুনুল হককে বলা হয়, ‘আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে’। পরে মামুনুল হক স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে এসময় মামুনুলের হাতে হাতকড়া পরানো হয়নি। তার সঙ্গে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষককে হেঁটে আসতে দেখা যায়। এসময় মামুনুল স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যান। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর একটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিসি হারুনের কার্যালয়ে। বের হওয়া ও গাড়িতে তোলার সময় হেফাজত কিংবা মাদ্রাসার কেউই মামুনুলের গ্রেফতারে বাধা দেয়নি। তবে মামুনুলকে গাড়িতে তোলার পর কয়েকজন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ডিসি হারুন-অর-রশিদ বলেন বলেন, মামুনুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। এসময় আমরা কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। এদিকে, মামুনুলের গ্রেফতারের পর মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার সামনে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে নারীসঙ্গীসহ স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়ে রাতেই ঢাকায় চলে আসেন তিনি। ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাদিরাবাদ হাউজিংয়ের নিজ বাসায় না গিয়ে তিনি পাশেই জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় যান। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করতে পারে- এ কারণে পাশেই নিজের বাসা হলেও তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন না। পরে দীর্ঘ নজরদারির পর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। এদেিক হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতারের আবারো আলোচনায় এসছেন হারুন-অর-রশিদ। যেমনটি তিনি ২০১১সালে আলোচনায় এসেছিলেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই, ঢাকায় হরতাল চলছিল। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তখনকার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে ফারুককে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। এরপর থেকে তিনি ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচিত হলেও না.গঞ্জে তিনি হয়েছেন আলোচিত। এখনো তার কথা না.গঞ্জ মানুষ স্মরন করে শ্রদ্ধার সাথে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *