না.গঞ্জের সর্বত্র কঠোরভাবেই ‘লকডাউন’ পালিত হচ্ছে

সংবাদটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের আটদিনের বিধি-নিষেধের প্রথমদিনে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র কঠোরভাবেই ‘লকডাউন’ পালিত হচ্ছে। এই বিধি-নিষেধ সর্বাত্মকভাবে পালনে বাধ্য করতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসানো হয়েছে ৩০টি চেকপোস্ট। সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়ে মোড়ের চেকপোস্টগুলোতে টহল দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গত বুধবারের (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই প্রথমে একটু ঠেলেঠালাভাবে কঠোর লকডাউনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম হলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে কঠোর অবস্থানে চলে যায়।প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে।সকালে অটো রিকশা,মিশুক,অটো,সিএনজি,প্রাইভেট কার,বাস,ট্রাক সহ গণপরিবহন দেখা গেলেও পরে আর রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত সীমিত সংখ্যক যানবাহন ছাড়া তেমন যানবাহন চোখে পড়েনি। প্রায় প্রতিটি যানবাহনকে থামিয়ে থামিয়ে কী প্রয়োজনে কোথায় যাচ্ছেন তা জানতে চাইছেন পুলিশ সদস্যরা। অপ্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন নিশ্চিত হলে মামলা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। সরজমিনে দেখা গেছে সাইনবোর্ড, ভূইঘর, ঝালকুড়ি, শিবু মার্কেট, চাষাড়া, পঞ্চবটি, ২নং রেলগেইট, খানপুর, নিতাইগঞ্জ, সিদ্বিরগঞ্জ, শিমরাইল, কাঁচপুর, মদনপুর, ভূলতা, কাঞ্চন, রুপসী সহ বেশ কিছু গুরুত্ব পয়েন্টে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।এছাড়া নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যারিকেড দিয়ে টহল বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের জেরা করতে দেখা গেছে। তবে যারা ঘরের বাইরে বের হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন বলে প্রমাণ দেখিয়ে যেতে পারছেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এসে এক প্রেস ব্রিফিং করেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আপনেরা দেখেছেন আমরা ৩০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছি।মোবাইল টিম চালু আছে।আমরা যেকোন মূল্যে যাত্রী বহনকারী বাস এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যায় তা আমরা রোধ করবো।নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে কাউকে বাহিরে যেতে এবং অন্য জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জের ভিতরে প্রবেশ করতে দিবো না।শুধুমাত্র কলকারখানা খোলা থাকবে।জরুরি যে সেবাগুলো সেগুলো চালু থাকবে।যানবাহনের ক্ষেত্রে মালবাহী যানবাহন যেগুলো সেগুলো চালু থাকবে।পন্য পরিবহন গাড়ী চালু থাকবে কিন্তু কোন প্রকার যাত্রী পরিবহণ চালু থাকবে না ফেরিতে।আপনেরা জানেন বন্দর কলকারখানা যে পণ্যবাহী গাড়ী সেগুলো সদর পুলিশ প্রশাসন ও নৌ পুলিশ প্রশাসন দেখবে।এছাড়া কোন মানুষ ফেরি পারাপার করবে না। গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি জেলা প্রশাসন গুরুত্ব দেবার কথা জানিয়ে এসপি জায়েদুল আলম বলেন,গ্রামঞ্চলের তুলনায় শহরে ঘনবসতি বেশি এবং সচেতন বেশি।সেক্ষেত্রে আমরা পুলিশ প্রশাসন শহরের দিকটায় একটু বেশি গুরুত্ব দেই।তাছাড়া গ্রাম মহল্লায় অলিগলি বেশি তারা বিভিন্ন গলিতে জুটলা হয় বেশি তার জন্য আমরা মহল্লাগুলোতে মাইকিং করেছি যাতে জটলা না বাধে।সেখানে আমাদের মোবাইল পাটিগুলো কাজ করবে।কোন সুনির্দিষ্ট কারন ছাড়া কোন ওষুধ কিনা,টিকা দেওয়া,কাঁচাবাজারে জন্য যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া তার মধ্যে এসব কারন ছাড়া কোন যানবাহন আমরা শহরে ডুকতে দিচ্ছি না।এছাড়া যদি কেউ মুভমেন্ট পাস আমাদের দেখাতে পারলে আমরা গাড়ী ছেড়ে দিচ্ছি এবং সহযোগীতা করছি।যারা দেখাতে পাচ্ছে না তাদের ফেরত পাঠাচ্ছি।কারন মুভমেন্ট পাস আমাদের আইজিপি স্যার সরাসরি নিয়ন্ত্রন করছে ঢাকা থেকে সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে। তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে লকডাউন মেনে বাসায় থাকার জিন্য অনুরোধ করে বলেন,আসুন আমরা সবাই নিজে বাঁচি, অন্যকে বাঁচতে সহায়তা করি।লকডাউনে আমরা কেউ যেনো বাসার বাহিরে না যাই।সরকার কর্তৃক যে বিধিনিষেধ দিয়েছে সকলকে আহবান জানাবো এই বিধিনিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করি।যে এ বিধিনিষেধ ভঙ্গ করবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।আমরা কারো প্রতি নির্দ্বয় হতে চাই না।সরকারের এই লকডাউনকে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।নারায়ণগঞ্জবাসী কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত থাকুক।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *