অশ্রুসিক্ত নয়নে নাহিদা বারিকের বিদায়

সংবাদটি শেয়ার করুন:

শহর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিকের বদলি জনিত কারনে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,জনপ্রতিনিধি ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অশ্রু সিক্ত নয়নে বিদায় নেবার সময় উপজেলা কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,জনপ্রতিনিধি ও তার শুভাকাঙ্খীদের মাঝে সৃষ্টি হয় এক আবেগময় পরিবেশ।পরম যত্নে রাখা কোন কাছের মানুষ যেনো চলে যাচ্ছে।হঠাৎ এ চলা যাওয়া যেনো কেউ মেনে নিতে পারছে না।তবুও কবির ভাষায়”যেতে নাহি দিবো হায়,তবু যেতে দিতে হয়।”গতকাল মঙ্গলবার(১৩ এপ্রিল)সকালে নারায়ণগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নাহিদা বারিকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড.আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। অনুষ্ঠানের প্রথম থেকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত ইউএনও সদা হাসিখুশি থাকলেও অনুষ্ঠের শেষ পর্যায় সকলের কাছ থেকে একে একে বিদায় নেবার সময় তৈরি হয় এক আবেগময় পরিবেশে। এত অল্প সময়ে ভালোবেসে ফেলা মানুষটার হঠাৎ বদলি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারী,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,জনপ্রতিনিধি ও ইউএনও শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেনো মেনে নিতে পারছে না।এক কান্নার রোল পড়ে যায় অডিটোরিয়ামে। কর্মকর্তা,কর্মচারী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,জনপ্রতিনিধি ও ইউএনও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সকলের নয়ন অশ্রু সিক্ত হয়ে উঠে এবং শেষ পর্যায় সকলের অশ্রুসিক্ত নয়ন দেখে ইউএনও নাহিদা বারিক নিজেই কেঁদে দেন।ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন কয়েকজন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খী। এর আগে নাহিদা বারিক তার বক্তব্যে বলেন,সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী,জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা পেয়েছি।আগেও আমি ডিসি অফিসে, এসিল্যান্ডে কাজ করেছি এর আগে এত খারাপ আমার লাগেনি।আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া একজন ইউএনওকে বিদায় জানাতে একজন সাংসদ সদস্য এসেছেন।স্যার(শামীম ওসমান) আপনার সাথে যতবার না ফোনে কথা বলেছি তার থেকে কয়েকগুন বেশি কথা বলেছি।কারন করোনার মহামারি সময় এমপি ভাবী(সালমা ওসমান লিপি) ও অয়ন ওসমানের ত্রান সরকারি ত্রানের আগে পৌছিয়ে দিয়েছেন।সেখান থেকেই ভাবীর সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। কারন তাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি আরো বলেন,প্রায় পত্রিকায় দেখা যায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে লেগে যায়।কিন্তু আমার সৌভাগ্য যে আমার কারো সাথে লাগেনি।এখানে ৭জন চেয়ারম্যান আছে।আমি ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর স্কুলের সাথে সম্পর্কিত ছিলাম।তাই আমি স্কুলের প্রতি একটু দূর্বল ছিলাম।তাই আপনাদের ৭ জন চেয়ারম্যানদের সাথে আমি কাজ করেছি।প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় লেগে যায় কিন্তু স্যার(শামীম ওসমান)আপনার সাথে কোন কিছুতেই লাগে নাই।এটা আমার সৌভাগ্য।আমার এ দুই বছরে অয়ন ওসমানকে কোন কাজে উপজেলায় আসতে দেখেনি। এর কারন কোন প্রকার রাজনৈতিক কাজে আমরা জড়িত ছিলাম না। নাহিদা বারিক আরো বলেন,আমার সৌভাগ্য আমার দুই জন এমপি ছিলো।অবশ্য সেলিম ওসমান কখনো উপজেলায় আসেনি কিন্তু সব সময় তিনি আমার সাথে কথা বলতেন।গত কিছুদিন আগে কয়লারঘাট লঞ্চ ডুবির ঘটনার সময় এমপি সেলিম ওসমান আমাকে ফোন দিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন নিজের প্রতি যেনো খেয়াল রাখি।তিনি সব সময় আমার ভালো খারাপ সব বিষয়ে খোজ খবর রাখতেন।হেফাজতে কান্ডের সময়ও তিনি আমায় ফোন দিয়ে সাবধানে থাকতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন,কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় মিডিয়ার সাথে কাজ করা হয়েছে।তারা আমায় সব সময় বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন।সব কাজের ভালো নিউজের পাশাপাশি নেগেটিভ নিউজও হয়েছে। সেটাকে আমি নেগেটিভ ভাবে নেই নাই।কারন কাজ আদায় করার জন্য হয়তো কারও বিরাগভাজন হয়েছি। অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনও নেতিবাচকভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখ দিয়ে সবকিছু দেখা যায় না।চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে। তবে নিজের অজান্তেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারও প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। পরে নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন ইউএনও। তার বক্তব্য শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকেই। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন,জেলা করোনা ফোকাল পার্সন ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা.মোঃজাহিদুল ইসলাম,ফতুল্লা এসিল্যান্ড আজিজুর রহমান মাসুম,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির,উপজেলা সহকারী প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার গুলশান আরা বেগম,বক্তাবলি ইউপি চেয়ারম্যান এম শওকত আলী,এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সহ অন্যান্য চেয়ারম্যান ও উপজেলা কর্মকর্তার কর্মচারীরা।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *