করোনার মহামারিতে অন্যদিনের তুলনায় শুক্রবারের কাঁচাবাজারে দাম বৃদ্ধি

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বাজার প্রতিনিধি:
করোনার মহামারিতে সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলোতে পটল, বেগুন, শিম, ধুন্দল, বরবটি, ঢেঁড়স, লাউ, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। করোনায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সবজির গাড়ি কম আসায় এই দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার (৯ এপ্রিল)শহরের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে অন্যদিনের তুলনায় আজ সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দামটা একটু বেশি কেজি প্রতি। দিগুবাজারে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সজনের ডাটার কেজি বিক্রি হচেছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে সজনের ডাটার কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে একমাত্র এই সবজিটির দাম কমেছে। অপরদিকে পটল, বরবটি, বেগুন, ঢেঁড়সের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। পটলের কেজি বিক্রি হচেছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচেছ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় থাকা বেগুনের কেজি বিক্রি হচেছ ৫০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচেছ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিমের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচেছ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে ছিল। বেশিরভাগ সবজির দাম বাড়লেও ফুলকপি ও বাঁধাকপি আগের মতো ৩০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচেছ। ধুন্দল, চিচিঙ্গা কিনতেও ভোক্তাদের ৫০ টাকার ওপরে গুনতে হচেছ । বাজার ও মানভেদে ধুন্দলের কেজি বিক্রি হচেছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচেছ চিচিঙ্গা। শশা আগের সপ্তাহের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচেছ । বাজার থেকে এখন শাক এক আঁটি কিনতে ১০ টাকা বা তার বেশি গুনতে হচেছ । পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচেছ ১০ থেকে ১৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচেছ লালশাক, সবুজ শাক, পাট ও কলমিশাক। পুঁই শাকের আঁটি বিক্রি হচেছ ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এক আঁটি ডাটা কিনতে লাগছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচেছ ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। শবেবরাতের আগে থেকেই এই দামে বিক্রি হচেছ ব্রয়লার। তবে করোনায় বিধিনিষেধ আরোপের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ টাকায় নেমে এসেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবারও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি হয় বেশিরভাগ বাজারে।ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি গত মঙ্গলবার সোনালী মুরগির দামও কমে। ৩৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এই মুরগির দাম একবারে কমে ২৬০ থেকে ২৪০ টাকায় নেমে আসে। গত কয়েকদিনে এই মুরগির দাম আর পরিবর্তন হয়নি। আর দীর্ঘদিন ধরে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া লাল লেয়ার মুরগি এখনো ওই দামেই বিক্রি হচেছ । মুরগির দামের বিষয়ে দিগুবাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, গতকাল ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করেছি। আজ পাইকারিতে দাম বাড়ায় ১৬০ টাকা বিক্রি করতে হচেছ । শুক্রবার হওয়ার কারণে এই দাম বেড়েছে বলে আমাদের ধারণা। সবজির দামের বিষয়ে বাজারের ব্যবসায়ী নাসির মিয়া বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ এমনিতেই কমে গেছে। এর সঙ্গে এখন লকডাউনের কারণে সবজির গাড়ি কম আসছে। এসব কারণেই সবজির দাম একটু বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জে সবজির গাড়ি আসতে সমস্যা হচেছ কি-না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সবজির গাড়ি আসতে কোনো সমস্যা হ”েছ না। তবে ব্যাপারীরাই মাল কম পাঠাচেছন। মাল বেশি পাঠালে যদি ঠিকমতো দাম না পাওয়া যায়, তেমন আশঙ্কা করেই হয় তো ব্যাপারীরা মাল কম আনছেন। তিনি বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ কমে আসায় এমনিতেই কয়েকদিন ধরে সবজির দাম বাড়ছিল। এর মধ্যে লকডাউন এসে দাম বাড়ার প্রবণতা আরও উসকে দিয়েছে। আমাদের ধারণা সহসা আর সবজির দাম কমবে না। প্রায় একই ধরনের কথা বলেন মালিবাগের সবজিবিক্রেতা মিলন। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই এখন সবজির দাম বাড়ার কথা। কারণ শীতের সবজি প্রায় শেষ। এর মধ্যেই লকডাউন এসেছে। লকডাউনের কারণে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *