শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় সর্বশেষ ——-আরো ৫টি লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪

সংবাদটি শেয়ার করুন:

শহর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামে মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আরও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জন। গতকাল মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এ ৫ জনের লাশ উদ্বার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, গত মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে নিহত সুনিতা সাহার অপর ছেলে অনিক সাহা (১২), মধ্য কোন্ডাগাও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর পুত্র ইউসুফ কাজী, ঢাকা মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩), মৃত আনোয়ার ও মুন্সিগঞ্জ সদরের দক্ষিণ ইসলামপুরের নুরুল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন হৃদয়, মালপাড়া এলাকার সিরাজের পুত্র রিজভী (২০)এই পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়৷ নিখোঁজদের মধ্যে দু’জন আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন৷ তাদের স্বজনরা এটা না জেনে ঘটনার রাতে তালিকায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ করেছিলেন৷ পরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়৷ তাদের মধ্যে আবার একজনের নাম দুইবার লিখিয়েছিলেন স্বজনরা৷ সে অনুযায়ী নিখোঁজ আর কেউ নেই৷
এর আগে ৫ই এপ্রিল সোমবার ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে নদীগর্ভ থেকে উঠিয়ে আনতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী দল।এরপর উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ পর্যন্ত আরও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়ালো। গত রবিবার বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে লঞ্চটি সদর উপজেলার কয়লাঘাট এলাকায় গেলে শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় একটি বালুবাহি বাল্কহেডের (কার্গো) ধাক্কায় নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার লঞ্চটি উদ্ধারসহ রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে উন ত্রিশজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লঞ্চডুবির ঘটনায় এখনো আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনরা দাবি করছেন। নিহতেরা হলো মুন্সিগঞ্জ সদরের নুড়াইতলীর মুখলেছের মেয়ে রুনা আক্তার (২৪), একই থানার মোল্লাকান্দির চৌদ্দমোড়ার সুমর আলী বেপারীর ছেলে সোলেমান বেপারী (৬০), সোলেমানের স্ত্রী বেবী বেগম (৫৫), মালপাড়ার হারাধনের স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০), তার ছেলে বিকাশ সাহা (২২), ছেলে অনিক সাহা (১২), মধ্য কোন্ডাগাও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর পুত্র ইউসুফ কাজী, ঢাকা মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩), মৃত আনোয়ার ও মুন্সিগঞ্জ সদরের দক্ষিণ ইসলামপুরের নুরুল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন হৃদয়, মালপাড়া এলাকার সিরাজের পুত্র রিজভী (২০),উত্তর চরমসুড়ার ওলিউল্লাহর স্ত্রী পাখিনা (৪৫),একই এলাকার আরিফের স্ত্রী বিথি (১৮), মেয়ে আরিফা (১), মুন্সিগঞ্জ সদরের প্রীতিময় শর্মার স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫৩), চর কিশোরগঞ্জ মোল্লাকান্দির মো. ফাজিলের ছেলে শামসুদ্দিন (৯০), শামসুদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬৫), দক্ষিণ কেওয়ার দেবেন্দ্র দাসের ছেলে নারায়ণ দাস (৬৫), নারায়ণের স্ত্রী পার্বতী রানী দাস (৪৫), বরিশালের উজিরপুরের খায়রুল হাওলাদারের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৪),হাফিজুরের স্ত্রী তাহমিনা (২০), ছেলে আব্দুল্লাহ (১), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কল্যান্দীর আজমীর (২), মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার মুশকে আলম মৃধার ছেলে শাহ্আলম মৃধা (৫৫), রতন পাতরের স্ত্রী মহারানী পাতর (৩৭),ঢাকার যাত্রাবাড়ি শনিরআখড়ার রশিদ হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার শেখ (৪৫),আনোয়ারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩০), আট মাস বয়সী মেয়ে মানসুরা, মুন্সিগঞ্জের নোয়াগাও পূর্বপাড়া এলাকার মিঠুনের স্ত্রী ছাউদা আক্তার লতা (১৮), শরিয়তপুরের নড়িয়ার মৃত নুরনবী শেখের ছেলে আব্দুল খালেক (৭০), ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকার তোফাজ্জলের মেয়ে লাবনী জিবু (১৩),বরিশালের স্বরূপকাঠির খাদিজা বেগম (৫০),বন্দরের সেলসারদী এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে মো. নয়ন (২৯), সাদিয়া (১১) এবং দোলা বেগম (৩৪)। ঘটনার দিন লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে যাত্রীদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে যায় শীতলক্ষ্যা পাড়। ওদিকে লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক প্রমুখ।##


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *