শীতলক্ষ্যায় এখনো যারা নিখোঁজ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার:
১৮ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ শীতলক্ষ্যায় ডুবে নিখোঁজ ‘এম এল সাবিত আল হাসান’ লঞ্চটি টেনে তোলে। লঞ্চের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ২১ জনের লাশ। পরে দুই শিশুসহ আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, ওই লঞ্চে থাকা ২৯ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যা পাঁচটা ছাপ্পান্ন মিনিটে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে যায় এম এল সাবিত আল হাসান নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি। তখনও কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হয়নি। লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা ৬৮ জন হলেও সেদিন তারও কম যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়েছিল বলে সংবাদকে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি মনিরুজ্জামান রাজা। অনুমানিক সোয়া ছয়টার দিকে মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর অদূরে এসকেএল-৩ (এম: ০১২৬৪৩) নামে একটি কার্গো জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে।
সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লঞ্চটিকে ঠেলে অন্তত ২০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে দেয় কার্গো জাহাজটি। এর মধ্যেই নদীতে ঝাপিয়ে পড়েন কয়েকজন। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, রাতেই ২৯ জন যাত্রী সাঁতরে জীবিত অবস্থায় নদী পার হতে সক্ষম হন। পাওয়া যায় পাঁচ নারীর লাশ। নিখোঁজ ছিলেন আরও ৩০ জন। লঞ্চডুবির ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর গতকাল দুপুর বারোটার দিকে লঞ্চটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে তার ভেতর পাওয়া যায় আরও ২১ জনের লাশ। বিকেলে মেলে আরও ৩ জনের লাশ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ যাত্রী।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন নিহত সুনিতা সাহার অপর ছেলে অনিক সাহা (১২), মধ্য কোন্ডাগাও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর পুত্র ইউসুফ কাজী, ঢাকা মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের পুত্র মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩), মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি বেতকা এলাকার মুছা শেখের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫), মৃত আনোয়ার ও মুন্সিগঞ্জ সদরের দক্ষিণ ইসলামপুরের নুরুল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন হৃদয়, মালপাড়া এলাকার সিরাজের পুত্র রিজভী (২০)।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *