মাও: আব্দুল আউয়ালের মান ভাঙ্গাতে না.গঞ্জে মামুনুল হক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বিশেষ প্রতিনিধি:
হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্দেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়ালের মান ভাঙ্গাতে না.গঞ্জে এসেছেন বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত হেফাজতের কেন্দ্রিয় অন্যতম নেতা আল্লামা মামুনুল হক। মামুনুল হকের নেতৃত্বে ৪সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দীর্ঘক্ষন বৈঠকের শেষে অবশেষে আব্দুল আওয়ালের রাগ ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছেন। এরফলে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সদ্য পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল।
( ৩১ মার্চ) বেলা ৩টায় ডিআইটি মসজিদে আসেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ন-মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিব। রুদ্ধকর ২ ঘন্টা বৈঠক করে আব্দুল আউয়ালের মান ভাঙাতে সফল হোন তারা। তাদের সাথে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসাইন কাশেমী, ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৩টা হতে ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতাদেরবসঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মহানগর ও জেলার নেতারা হরতালের দিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময়ে কোন বিরোধ না ঘটিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান করেন। পরে আল্লামা মামুনুল হক ব্রিফিংয়ে বলেন, মাওলানা আবদুল আউয়াল আগের মতই দায়িত্ব পালন করবে। সকল প্রকার মান অভিমান সব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।হেফাজত কখনই বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় না।হরতালে হেফাজত ছিল অহিংস। হেফাজত কোন ধরনের হামলা মারধর ভাঙচুর করেনি।এটা বহিরাগত কেউ করেছে। হেফাজতে ইসলাম সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করে।সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। উল্লেখ্য যে ২৯ মার্চ সোমবার বিকেলে দেওভোগ মসজিদে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সারা দেশে মোদি বিরোধী বিক্ষোভে আহতদের সুস্থতা কামনা ও নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনায় মাওলানা ফেরদাউসুর বলেন,‘আমরা কেন্দ্রে অভিযোগ করব এবং ঢাকা মহানগরে অভিযোগ দিয়েছি যে এই সভাপতি আমাদের চলবে না। ওনার অতিতের ইতিহাস এরকম। উনি যখন হার্ডলাইনে দেখে তখন ব্যাকফুটে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলার আমীর আল্লামা আব্দুল আওয়াল সাহেব সকাল ১০ বাজে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন এই ঘোষণার সাথে আমরা একমত ছিলাম না।’ এদিকে ২৯ মার্চ সোমবার রাতে শবে বরাত উপলক্ষ্যে ডিআইটি সমজিদে আলোচনায় হরতালের দিন সকাল ১০টায় কেন সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই বিষয়ে জানিয়ে হেফাজত থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল। এর আগে আবদুল আউয়াল বলেন, ‘২৮ মার্চ হরতালের দিন সকালে মসজিদে পুলিশ,বিজিবি, র্যাব, ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। তারা মসজিদের গেটের সামনে তিনটি কামানা, সাজোয়া যান পুলিশের গাড়ি দিয়ে বেরিকেড দিয়ে রাখে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় মিছিল বের করতে চাইলে অ্যাকশনে যাবে। তাদের উপরের নির্দেশেনা রয়েছে। প্রয়োজনে গুলি করবে। তখন আমি সকলের জানমালের স্বার্থে মসজিদের গেটের বাইরে যেতে বারণ করি।কারণ আমাদের তো অস্ত্র নাই। কিন্তু মহানগরের অতি উৎসাহী নেতারা মিছিল করতে চেয়েছিল। যদি সেদিন মিছিল করতে গিয়ে আমাদের উপর গুলি ছোড়া হতো, কেউ লাশ হতো তখন তো এ আবদুল আউয়ালকে দোষারোপ করা হতো। মসজিদে গুলি ছুড়লে ঝাঝরা হয়ে যেত। তখন আপনারাই বলতেন কেন লাশ হলো মানুষ। এ কেমন নেতৃত্ব। এসব নেতৃত্ব আমরা মানি না। তখন মেয়র আইভী সহ অনেকেই সুযোগ নিতেন আমাকে সরিয়ে দিতে। মামলা হয়েছে। যদি আমরা মিছিল করার চিন্ত করতাম তাহলে সবগুলো মামলার আসামী হতাম আমি সহ সকলে। এ কারণে আমাদের লোকজনও অনেকেই ক্ষুব্ধ। তারা আজকে (সোমবার) ডিআইটি মসজিদে বাদ আছর দোয়া না করে দেওভোগে করেছে।কারণ আমাকে তো বাদ দিয়েই দিছে। তাই আমি আর দল করবো না। ভবিষ্যতে আর নেতৃত্ব দিব না। মসজিদ মাদ্রাসা নিয়েই থাকবো।আমার এখন বার্ধক্য বয়স তাই আমি ভবিষ্যতে আর নেতৃত্বে থাকবে না। আমি আমার জিম্মাদারী ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকবো না। আমার আমির পদ দরকার নাই। আমার পক্ষ থেকে আর কোন দিন ঘোষণা আসবে না। তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা বাবা হেফাজত ইসলাম করো।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *