আতংকে ঘুমাচ্ছে অন্য বাড়ীতে

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বিশেষ প্রতিনিধি:
সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের হরতালে সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা পুলিশের মামলায় পর থেকে আতংকে দিন কাটছে বিএনপি নেতাদের। সেই আতংক আরো একধাপ বেড়ে গেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আকবর হোসেন গ্রেফতারের পর থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় থেকে এসআই ফয়সাল আলম আকবরকে গ্রেফতার করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান (পিপিএম বার) গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আকবর নাশকতা, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত আসামী। এদিকে আকবর গ্রেফতার খবরে গ্রেফতার আতংকে ভুগছে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি-জামাতের নেতারা। গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছাড়া অধিকাংশ বিএনপি নেতা। রাতে ঘুমাচ্ছে অন্যের বাড়ীতে। কারন, তাদের ধারনা রাতের বেলা যেকোন সময় বিএনপি’র বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশ গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাতে পারে। গতকাল রাতে কয়েকজন বিএনপি নেতারা সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে অনেকের মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে। বাসায় গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পরিবার থেকে জানানো হয়, তারা বাড়ীতে নেই। গত ২দিন ধরে অর্থাৎ মামলা হবার পর থেকে তারা রাতে বাড়ীতে ঘুমায় না।
গত সোমবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে নাশকতা, পুলিশের উপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা ৫টি মামলার এজাহারে সাবেক এমপিসহ বিএনপি-জামায়াতের ১৩৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়। তবে এজাহারে পুলিশ ভুলক্রমে মৃত বিএনপি নেতার নামে ২টি নাশকতা মামলা ও কারাগারে বন্দি যুবদল নেতা শহিদুল ইসলামের নামে ১টি মামলা দিলেও পরবর্তীতে মামলা থেকে ওই মৃত বিএনপি নেতা ও যুবদল নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে গত দু’দিন ধরে পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার আতংকে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, পুলিশের দায়ের করা নাশকতা মামলায় জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকেই আসামি করা হয়েছে। তাঁরা এখন গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন। এদিকে আতংকে দিন কাটাচ্ছে মামলায় আসামি হওয়া নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যরা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশ আমাদের নামে এই মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়েছেন। আমি তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন নেতাও এলাকায় থাকতে পারছে না। তিনি আরও বলেন মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবেনা। জেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই দিন হরতাল ছিলো জামায়াতে ইসলামের। এখানে বিএনপির কোনো সমর্থন ছিলো না। হেফাজত বিএনপির সাথে নির্বাচনী জোটেও নাই রাজনৈতিক জোটেও নাই। গত (৩০ মার্চ) রাত থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু হরতালে হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়নি। এসব গায়েবী মামলায় বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, বিএনপি হরতালেও ছিলোনা রাজপথেও ছিলোনা। এমন কোনো প্রমাণও নেই। এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা সরকারের একটা অভ্যাস। ২০১৩ সালে যখন হেফাজত মাঠে নেমে ছিলো তখনও বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা করেছিলো। মামলা দিয়ে দলকে দূর্বল করার চেষ্টা করছে সরকার। তাদের দাবি বিএনপি বিশাল একটি জনসমর্থিত দল। চাইলেই মামলা দিয়ে এই দলকে ধ্বংস করা যাবে না। ২০১৮ সালে গায়েবী মামলা দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিলো এখন আবারও এই গয়েবী মামলা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার শেষ চেষ্টা করছে। তবে তাদের সময় হয়তো বেশি দিন নাই তাই আবারও বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরীফ আহমেদ বলেন, নাশকতা, পুলিশের উপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারে অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ মার্চ) হেফাজতের ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালকে কেন্দ্র করে ওই দিন ভোর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেয় হেফাজতকর্মীরা। এসময় পুলিশ তাদেরকে বাধা দিলে শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *