করোনার ভয়াবহ চিত্র আর দেখতে চাই না………………… নাসিক মেয়র আইভী

সংবাদটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘ করোনার ভয়াবহ চিত্র আর দেখতে চাই না। সারা শহর নিস্তব্ধ ছিল।কয়েকটি পুলিশ ভ্যান পাহাড়া দিচ্ছিল আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর খবর আসছিল। প্রথম দিকে গিটারিস্ট হিরোর লাশ পড়ে ছিল ছয় থেকে সাত ঘন্টা। কেউ ভয়ে আগাতে চাচ্ছিলো না। ছয় ঘন্টা পর এই ঘটনা জানতে পেরে সিটি কর্পোরেশনের দুইজন লোক পাঠালাম। সেই সময় বাড়িওয়ালা পর্যন্ত আতঙ্কে লাশ গোসল করানোর পানি দিতে চাচ্ছিলো না।আমরা সেই লাশ কোনোরকমে ভ্যানে তুলে পাইকপাড়া কবরস্থানে গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করি। পরে তাঁর নমুনা নেওয়ার পর জানা গেল সে কোভিড পজেটিভ ছিল।
গত রবিবার (২১ মার্চ) দুপুর সাড়ে তিনটায় শহরের চাষাঢ়ায় খাঁজা মার্কেট সংলগ্ন জেলা পুলিশের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র আইভী আরো বলেন,আমরা চেষ্টা করেছি প্রতি ওয়ার্ডে দাফন কমিটি গঠন করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমার ৩৬ জন কাউন্সিলর একযোগে কাজ করেছে।কারও নাম বলে আমি কাউকে ছোট করবো না।লাশ মোড়ানোর জন্য ব্যাগ ছিল না। পরে জেলা পুলিশ থেকে ২০০ ব্যাগ দেওয়া হয়। পরে আমরা আরও ব্যাগ বানিয়ে নিয়ে আসি। বিপদে একসাথে কাজ করার ইতিহাস বাংলাদেশে সবসময় আছে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে দল-মত নির্বিশেষে একত্রিত হয়েছিল। ঠিক তেমনই যেকোনো বিপদে বাঙালি যে একত্রিত হতে পারে তার প্রমাণ এই কোভিডকালীন সময়ে তারা দিয়েছে। সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে আইভী বলেন, ‘আজকেও ৩৫ জনের মতো পজেটিভ হয়েছে।আমরা চাই না এটা বাড়তে থাকুক। এখন কোনো উপসর্গ না দেখালেও ফুসফুস ৭০ শতাংশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলবে। সুতরাং মাস্ক পরতেই হবে। মাস্ক শুধু কোভিড না আরও কিছু সমস্যা থেকে রক্ষা করবে। হাত বার বার পরিষ্কার করতে হবে।’ পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন,বাংলাদেশ পুলিশ সবসময়ই কর্তব্যপরায়ণ এবং অনেক বেশি অভিজ্ঞ। আমরা তাদের সেভাবে ব্যবহার করতে পারি না বলে অনেক সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলে থাকি। কিন্তু আমি মনে করি বাংলাদেশের চৌকস বাহিনীগুলোর একটি পুলিশ। এমন কোনো কাজ নেই যেটা তারা করতে পারে না। এভাবেই জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করবে বলে আশা করি। মানুষ যেন পুলিশকে ভয় না পায়।কেননা তারা বিপদে পড়ে আশ্রয়ের জন্য পুলিশের কাছে আসে।নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সবসময় আপনাদের পাশে আছি। এই সিটির ভেতরে প্রশাসনের কেউ সহযোগিতা চেয়ে কখনও না শব্দ শোনেনি। সিটি কর্পোরেশন এই বিষয়ে সবসময় পজেটিভ, এমনটাই থাকতে চাই। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি। আমরা জনগণের সেবক এইটা ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় আমাদের বেতন হয়। এইখানে দাঁড়ানো সকলের বেতন হয় জনগণের ট্যাক্সের পয়সায়। জনগণের হয়রানি করা নয়, সেবা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সমালোচনা করবেন তবে সেটাও যেন গঠনমূলক হয় সেই কথাটা মনে রাখতে হবে। ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন)মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশারফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সফিউল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন,জেলা করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ্ আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম,সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শাহ্ জামান, পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *