ফলোআপ: দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে ঘুষ ফতুল্লায় গণধোলাইয়ের শিকার প্রতারক ইমরানের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

সংবাদটি শেয়ার করুন:

ফতুল্লা প্রতিনিধি:
ফতুল্লায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নাদিম সরদার নামে এক প্রিন্টিং ব্যবসায়ির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নিতে এসে জনতার রোষানলে পড়েছেন প্রতারক ইমরান হোসেন (৪২)। পরে জনতা গণধোলাই দিয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। তবে এ সময় কৌশলে পালিয়ে গেছে তার দুই সহযোগী সানজিল (৩০) ও সেলিম (৩৮)। এ সময় পুলিশ ইমরান হায়দারের কাছ থেকে দুদুকের একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত আইডি কার্ডে লেখা ছিল‘ মো: ইমরান হোসেন হায়দার, কোর্ট সহকারী (এ এস আই) দুর্নীতি দমন কমিশন’। গত রোববার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর ফকির গার্মেন্টসের দুই নাম্বারের গেইটের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় রোববার রাতেই ভুক্তভোগি ব্যবসায়ি নাদিম সরদার বাদী হয়ে ইমরান হোসেন হায়দার ও তার পলাতক দুই সহযোগিকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গতকাল সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে ইমরান হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠালে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট “খ অঞ্চল” কাউসার আহমেদের আদালত শুনানী শেষে তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, নাদির সরকার ফেব্রিক্স সাপ্লাইয়ের ব্যবসী। গত ১ মাস আগে ইমরান হোসেন হায়দার (৪২) নিজেকে দুদকের কোর্ট সহাকারী (এএসআই) পরিচয় দিয়ে নাদির সরকারকে বলে আপনার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা আছে। তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবো। মামলায় সুবিদা দেয়ার কথা বলে নাদির সরকারের কাছে ইমরান হোসেন হায়দার ১ লাখ টাকা দাবী করে। এক পর্যায়ে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে ইমরান হোসেন হায়দার ও তার দুই সহযোগী সানজিল হোসেন (৩০) ও সেলিম (৩৮) কে ২০ হাজার টাকা দেন নাদির সরদার। এবং বাকী ৮০ হাজার টাকা পরে এসে নিয়ে যাবে বলে জানায় তারা।
এদিকে ইমরান হোসেন হায়দার ও তার দুই সহযোগির কথা-বার্তায় সন্দেহ হলে নাদির সরকার ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদক অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ইমরান হোসেন হায়দার নামে সেখানে কোন কর্মকর্তা-কর্মচার নাই।
ওদিকে ১৪ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে কায়েমপুরস্থ ফকিরা গার্মেন্টসের ২নং গেইট সংলগ্ন রাস্তায় নাদিম সরকারের কাছে দাবীকৃত ৮০ হাজার টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নাদিম সরকারকে মারধর করতে উদ্যত হয়। এসময় নাদিমের ডাক চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতারকরা পালানোর সময় লোকজন ইমরান হোসেন হায়দারকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকী দুইজন কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। প্রতারক ইমরান হোসেন হায়দারগং এরআগে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার জিললুর ব্রেড এন্ড বিস্কুট বেকারীর মালিকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারনার মাধ্যমে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *