সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়তে কাজ করছি ……………গোপালগঞ্জে আইভী

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রির্পোটার:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে কেমন দেখতে চাই এটি এক বাক্যে শেষ করা যাবে না। নারায়ণগঞ্জ ৮-১০টি জেলার মতো সাধারণ একটা জেলা চাই। সবধরনের নাগরিক সুবিধা দিতে চাই। যে নাগরিক সুবিধার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, শিশুবান্ধব নগরী গড়তে হবে, সন্ত্রাসমুক্ত নগরী করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সবধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। যাতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ থাকে, মানুষের জন্য বসার জায়গা থাকে এবং পরিকল্পিত নগরায়ন বলতে যা বোঝায় আমরা সেই লক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কাজ করছি।’
গতকাল শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সহযোগিতা করতে পারি। তাদের যেকোনো কাজে সহযোগিতা করে সচেতনতা বাড়াতে পারি। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি। কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে চিন্তা আমরা করতে পারি। কিশোর গ্যাং বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচনায়। নারায়ণগঞ্জেও আলোচিত হয়েছে। আমাদের বাচ্চারা যাতে বিপথগামী না হয় সেজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান সিটি মেয়র আইভী। পরে বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সশ্রদ্ধ চিত্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি। বঙ্গবন্ধু একটা দেশ দিয়েছেন। তাঁরই কন্যার নেতৃত্বে এদেশ এগিয়ে চলছে। যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিক মেয়র বলেন, ‘সিটি গভর্নেন্স ও উন্নয়নে নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। সিটি গভর্নেন্স অনেক আগের দাবি ছিল। প্রয়াত মেয়র হানিফ খানই এই দাবি করেছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য দাবি উঠে এসেছে। এর আগে কিন্তু কোনো দলের জাতীয় ইশতেহারে এটি লেখা ছিল না।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় কাজ করে যাচ্ছেন। এমন কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড নাই যেখানে উন্নয়ন হয় নাই।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটি এক দিনে হয়ে যাবে না, এটি সম্ভব নয়। আমরা কিন্তু সেই লক্ষে এগিয়ে চলছি। এবং জাপানের জাইকার সহযোগিতায় আমাদের প্রজেক্ট চলতেছে যা সিটি গভর্নেন্স নামে পরিচিত। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, কীভাবে অন্যান্য সংস্থাকে সাথে রেখে কাজ করা যায় এবং ভবিষ্যতে এককভাবে সিটি করপোরেশনগুলো কীভাবে কাজ করতে পারে সে জিনিসগুলো এখানে রয়েছে। আশা করি যখন এই যোগ্যতাটুকু অর্জন করে ফেলবো প্রতিটি সিটি করপোরেশনে সিটি গভর্নেন্স আজকে না হোক আগামী দশ বছর পরে হলেও অবশ্যই হবে।’
এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, নারী বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শামসুজ্জামান ভাষানী, সাদেকুর রহমান সাদেক ইউসুফ ভূইয়া ননী, মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল হুদা বাবু, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরবৃন্দ।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান সিটি মেয়র আইভী। দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরে পৌছালে গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ফুল দিয়ে মেয়রকে বরণ করেন। পরে মেয়রের সম্মানে গোপালগঞ্জ ক্লাবে চা পানের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী শিকদার চুন্নু, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুল হুদা মিল্টন, সদর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তাসবিরুল হুদা বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *