বন্ধ হওয়া আদমজীর স্কুলগুলোর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ৩য় পূর্নমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠগুলোর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলের অভ্যন্তরে থাকা আদমজী হাই স্কুল, আদমজী গার্লস হাই স্কুল, আদমজী শ্রমিক কল্যান স্কুল ও আদমজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ছিলো অন্যতম। আদমজী জুট মিল প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৭ সালে একে একে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মিল অভ্যন্তরে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অব্যাহত লোকসানের কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শাসনামলে ২০০২ সালের ৩০ জুন যখন এশিয়ার বৃহত্তম এই মিলটি বন্ধ ঘোষনা করা হয় তখন একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঢেলে দেয়া হয় সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থীকে। কিন্তু মিল বন্ধ হলেও থেমে থাকেনি শিক্ষার্থীদেও লেখা-পড়া। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্কুল-কলেজে ভর্তি হয়। এদিকে মিল বন্ধ হওয়ার আঠারো বছর পর ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গত ১২মার্চ শুক্রবার সকল শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার লক্ষ্যে তৃতীয় বারের মতো আয়োজন করে এক পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের। কুমিল্লা জেলার ঐতিহাসিক স্থান শালবন বিহার ও কোটবাড়িতে পূর্নমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্নমিলনী এ অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান মতি। এদিকে পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী হাই স্কুল, আদমজী গার্লস হাই স্কুল, আদমজী শ্রমিক কল্যান স্কুল ও আদমজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ সহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি। শিক্ষকরা এই সুন্দর আয়োজন করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জানান এবং সেই সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মতিউর রহমান মতি স্মৃতিচারণ করে বলেন, শিক্ষা জীবনের সেই দিনগুলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিলো। এখনও সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। প্রিয় স্যারদের আদর ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা আমরা কখনো ভুলতে পারবো না। এসময় আদমজী স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষকদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদেরকে সম্মাননা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। আলোচনা শেষে দুপুরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।এসময় শিক্ষার্থীরা গান পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন।ব্যাচ-২০০০ এর এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক বছর পর প্রিয় বন্ধুদের এক সাথে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছি। সকাল থেকেই একে এক সকল বন্ধুরা এসে ঝড়ো হতে শুরু করে। একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমরা চেষ্টা করবো প্রতি বছর একটি দিন বন্ধুদের নিয়ে এমন মিলমেলার আয়োজন করার।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *