না.গঞ্জ বিএনপিতে দায়িত্ব নেবেন না তারা!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রির্পোটার:
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির চরম দু:সময় চলছে। দীর্ঘদিন যাবত মামলা হামলায় জর্জরিত হওয়ার পাশাপাশি কমিটি নিয়ে বানিজ্য আর নেতাদের সাথে কর্মীর দুরত্বে সাংগঠনিক কর্মকান্ড একেবারেই ভেঙ্গে পরেছে তাদের। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে যাদেরকে দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে এগিয়ে আসার কথা তারাই এড়িয়ে যাচ্ছেন। দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নেপথ্যে থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ধরে রেখে সুবিধা গ্রহন করলেও দায়িত্ব নেবার ক্ষেত্রে তাদের যত আপত্তি। তাই দলে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেয়া এসব দায়িত্বহীন নেতাদের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ মো: গিয়াসউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন পদ পদবীতে কখনো থাকেন না। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দাবী করলেও তিনি পদ পদবী ব্যবহার করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। সারা বছর দলের কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলেও নির্বাচনের সময়ে সক্রিয় দেখা যায় এই প্রভাবশালী নেতাকে। তবে দলের ক্রান্তিকালে জেলা বিএনপির দায়িত্ব গ্রহনের জন্য তাকে অনুরোধ করা হলেও বারবার তিনি তা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। যেমনিভাবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব। অথচ বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে নিজ পুত্রকে ঐ একই নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ঠিকই বিজয়ী করেছিলেন মো: গিয়াসউদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া মো: শাহ আলম দায়িত্ব নেওয়ার ভয়ে জেলা ও থানা বিএনপির পদ থেকে পদত্যাগ করেন কিন্তু নেপথ্যে থেকে তিনি ঠিকই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। শাহ আলমের পদত্যাগের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তার অনুগত আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা কমিটি ঘোষনা করে তৎকালীন জেলা বিএনপি। দলের সুবিধা গ্রহন করলেও দলের দায়িত্ব নিতে অপারগ এই ব্যবসায়ী নেতা।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আরেক নীতি নির্ধারকদের একজন রূপগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু যিনি দিপু ভূইয়া নামে সমধিক পরিচিত। বিশাল বিত্ত বৈভবের অধিকারী দিপু ভূইয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কিন্তু জেলা বিএনপির দায়িত্বে কোনদিন আসেননি, আসতে চানও না। বর্তমানে দলের এই চরম দু:সময়ে তার মতো নেতার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার কথা থাকলেও তিনিও তা এড়িয়ে যাচ্ছেন বরং তার অনুসারী কাউকে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন যেমনিভাবে জেলা যুবদলের কমিটি হওয়ার ক্ষেত্রেও নিস্ক্রিয় গোলাম ফারুক খোকনকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছিরেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাইব্রিড নেতাদের মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। গত কয়েক বছরে রীতিমত উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এবং কমিটি বানিজ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে জেলা বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সুবিধাবাদি নেতারও রয়েছে অনীহা।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *